ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বের জন্য মার্কিনদের আবেদন রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ১ হাজার ৯৩০ জনের বেশি মার্কিন নাগরিক ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এটি আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ট্রাম্পের শুল্কনীতি ঘোষণার পর মার্কিন পেশাজীবীদের মধ্যে যুক্তরাজ্যে বসবাস ও নাগরিকত্বের আগ্রহ বেড়ে গেছে।
ইমিগ্রেশন অ্যাডভাইস সার্ভিস নামক একটি আইন সংস্থার পরিচালক ওনো ওকেরেগা বলেন, ‘মানুষ ভয়, হতাশা ও আর্থিক নিরাপত্তার কারণে দেশ ছাড়ছে। এর বাইরে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে আরো গভীর উদ্বেগ রয়েছে।’
এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর দিকের তথ্য। তবে এর আগেও নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর নাগরিকত্বের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।
হোম অফিসের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিসা আবেদনের হারও আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অতিরিক্ত প্রগতিশীলতার অভিযোগে আক্রমণ করার পর এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আইন পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ফ্যাগর ড্রিঙ্কার বিডল অ্যান্ড রিথ এলএলপির অভিবাসন আইনজীবী ক্লেয়ার নিলসন বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে অনেক মার্কিন নাগরিকই এখন বিদেশে স্থিতিশীলতা ও সুযোগ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে এলজিবিটিকিউ কমিউনিটি ও অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীর মানুষ। অনেকেই ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন, তারা এখন নির্দিষ্ট সময় পার করে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করছেন।’
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন বলেন, ‘মার্কিন রাজনৈতিক পরিবেশ আবেদন প্রবণতাকে প্রভাবিত করেছে তা "যুক্তিসংগত”এবং তথ্য দেখাচ্ছে মার্কিনদের এখন অন্য দেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সম্ভাবনা বেশি।’
তিনি আরো জানান, সম্প্রতি একটি নতুন আইন পাস হয়েছে। যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণকারী দাদা-দাদি/নানা-নানির নাতি-নাতনিরা এখন প্রথমবারের মতো নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারছেন।
গত বছর ৫ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মার্কিন নাগরিককে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এটি ২০২৩ সালের তুলনায় ২০ শতাংশেরও বেশি।